সিসিসিআই ওয়ার্কশপে ইতালির রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী

বাংলাদেশে বর্তমানে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ইতালিয়ান টেক্সটাইল মেশিনারিজ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আয়োজিত বিটুবি ওয়ার্কশপে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি। চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইতালি ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ২ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও গুণগত মানোন্নয়নে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলো আধুনিক মেশিনারিজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইতালিয়ান ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে চায়না অর্থনৈতিক জোন ও ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে উঠছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীতেও আরেকটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে।’

তিনি ইতালিয়ান কোম্পানিগুলোকে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। আমিরুল হক বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড জোনে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকায় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল, লেদার ও স্টিলসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ইতালিয়ান কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক মেশিনারিজ সরবরাহ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

আরও